আমাদের কার্যক্রম

যুব মজলিসের কার্যক্রমঃ
বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস টোটাল ইসলামী আন্দোলনের চিন্তায় বিশ্বাসী ৷ পূর্ণাঙ্গ জীবনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই সংগঠন তার কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে ৷যার বাস্তবায়ন সংগঠনের সকল জনশক্তির জীবনে পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করার মাধ্যমেই সম্ভব ৷

যুব মজলিস তার এই লক্ষ্য অর্জনে আন্দোলন ও সংগ্রামী কর্মসূচির পাশাপাশি গঠনমূলক দুই ধরনের কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে ৷
ক) ব্যক্তিগত
খ) শাখাগত বা সামষ্টিক

ব্যক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নেযামুল আ’মাল প্রণয়ন করেছে ৷ নেযামুল আ’মালের অনুসরণ ব্যক্তির জীবনকে পরিশীলিত করবে ইনশাআল্লাহ ৷ সংগঠনের সদস্য,কর্মী,সংগঠক ও নকীব প্রত্যেক স্তরের জনশক্তির জন্য ভিন্ন ভিন্ন কাজের নির্দেশনা দিয়ে প্রণীত হয়েছে “নেযামুল আ’মাল” ৷ জনশক্তির দ্বীনী ও সাংগঠনিক জীবনের উত্তম পাথেয় এই “নেযামুল আ’মাল “৷

সমষ্টিগত কার্যক্রম দুই প্রকার ৷
১)  নিয়মিত
২)  প্রয়োজন স্বাপেক্ষে ৷

নিয়মিত কর্মসূচিঃ
নিয়মিত কর্মসূচি আবার তিন ধরনের ৷
১)  সাপ্তাহিক
২) মাসিক 
৩) ত্রৈমাসিক

সাপ্তাহিক কর্মসূচিঃ
সংগঠনের প্রতিটি শাখা, উপ শাখা প্রতি সপ্তাহে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে এবং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে নিম্নোক্ত চারটি কাজ করবে ৷

১) দাওয়াতী মজলিসঃ দ্বীন ও সংগঠনের দাওয়াত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি ৷ এতে সংগঠনের নির্ধারিত দাওয়াতী বক্তব্যসমূহ উপস্থাপন করতে হবে ৷
সংগঠনের নির্ধারিত বক্তব্যসমূহ হচ্ছে-
ক) ইসলামের মূল তিন কাজ
খ) দ্বীন বিজয়ের চার স্তর
গ) ইসলামী আন্দোলনের বুনিয়াদ
ঘ) ইসলামী আন্দোলনের কাজ

২) হালক্বায়ে তা’লীমঃ কুরআন, হাদীস,আকীদা, মাসআলা-মাসায়েল ও ইসলামী জীবনব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে কিতাবী ও মৌখিক তা’লীমের আয়োজন করতে হবে ৷

৩) এজতেমায়ী দাওয়াতঃ সম্মিলিতভাবে মানুষের কাছে গিয়ে গিয়ে দাওয়াত পৌঁছানো ৷এজন্য সংগঠনের দাওয়াতী বক্তব্যসমূহের সাহায্য নিতে হবে ৷

৪) এসলাহী মজলিসঃ শবগুজারীর আমলসহ এই কর্মসূচি পালন করতে হবে ৷ জনশক্তির মাঝে রূহানিয়াতের শক্তি সঞ্চয় এই কর্মসূচির লক্ষ্য ৷ তাক্বওয়া, তাযকিয়া ও আমলের জযবা পয়দা করার উদ্দেশ্যে এসলাহী মজলিস করতে হবে ৷
সাপ্তাহিক ভিত্তিতে উপরোক্ত চার কর্মসূচির প্রথম তিনটি প্রতিটি শাখা উপশাখায় বাস্তবায়ন করতে হবে ৷ আর এসলাহী মজলিস করতে হবে বৃহত্তর অঞ্চলের যৌথ উদ্যোগে ৷
এসলাহী মজলিসের কর্মসূচি সংগঠনের মাসিক এজতেমার ফায়দা দিবে ৷

এসলাহী মজলিসের কর্মসূচিঃ
এসলাহী মজলিসে নিম্নবর্ণিত কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকবে-
ক) সালাতুল এশার পূর্বে মসজিদে উপস্থিতি ও তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়
খ) মসজিদের আদব বয়ান
গ) এসলাহী বয়ান
ঘ) খানার আদব বয়ান ও খাবার গ্রহন
ঙ) শেষ রাতে ক্বিয়ামুল্লাইল আদায়
চ) হালক্বায়ে যিকির
ছ) বাদ ফজর সূরা য়াসীন তেলাওয়াত
জ) সালাতুদ্দোহা আদায়

বিঃদ্রঃ
১, সপ্তাহের একটি দিনকে সাংগঠনিক এই কর্মসূচিগুলোর জন্য নির্ধারণ করতে হবে এবং সেই দিনটি শুক্রবার হলেই ভালো হয় ৷ বৃহস্পতিবারও হতে পারে ৷

২, দাওয়াতী মজলিস,
হালক্বায়ে তা’লীম ও এজতেমায়ী দাওয়াতের আগে প্রতিটি কর্মসূচিতে নিয়মিতভাবে কুরআন-হাদীসের দরসের আয়োজন করতে পারলে ভালো হয় ৷ সংগঠনের নির্বাচিত দরসের সিরিজ আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ও শাখার পক্ষ থেকে আলোচক থাকবে, যারা শাখা উপশাখাগুলোতে সেই আলোচনা উপস্থাপন করবে ৷

৩, মাসে সাধারণত চারটি শুক্রবার/বৃহস্পতিবার হিসাবে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে চার কর্মসূচি নির্ধারন করা হয়েছে ৷ কোন মাসে পাঁচ শুক্রবার হলে পঞ্চম শুক্রবার দিন উপরোক্ত চার কর্মসূচির মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট শাখায় যেই কর্মসূচির প্রয়োজন অনুভব হবে সেটা বাস্তবায়ন করবে ৷

মাসিক কর্মসূচিঃ
শাখা ও উপ শাখা মাসিক ভিত্তিতে দুটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে ৷

ক) দাওয়াতী সফরঃ
নিজ শাখার বাইরে দাওয়াত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সফর করতে হবে ৷ দিন ব্যাপি অথবা ন্যুনতম অর্ধ দিন ব্যাপি ছোট ছোট দলে এই সফর করবে এবং সংগঠনের দাওয়াতী বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে দাওয়াতী কাজ করবে ও নতুন নতুন শাখা/উপ শাখা গঠন করবে ৷

খ) দাওয়াতী মিছিলঃ
আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার আহ্বান ও খেলাফত কায়েমের দাওয়াত প্রচারের লক্ষ্যে দাওয়াতী মিছিল করবে ৷

ত্রৈমাসিক কর্মসূচীঃ
প্রতি তিনমাস অন্তর অন্তর তিনদিনের তরবিয়তী সফর করবে ৷
তরবিয়তী সফর
_______________
লক্ষ্যঃ
ক) জনশক্তির আমলী তরবিয়ত ও সুন্নতী জিন্দেগীর অনুশীলন
খ) সাংগঠনিক তরবিয়ত
গ) দাওয়াত সম্প্রসারণ

কর্মসূচিঃ
১, এজতেমায়ী ও খুসুসী দাওয়াত

২, আলোচনা ও মুযাকারা-
ক) ইসলামের মূল তিন কাজ
খ) দ্বীন বিজয়ের চার স্তর
গ) ইসলামী আন্দোলনের বুনিয়াদ
ঘ) ইসলামী আন্দোলনের কাজ

৩, বিষয় ভিত্তিক আলোচনা-
ক) ইসলামী আন্দোলনে রূহানিয়াতের গুরুত্ব
খ) সুন্নতি জিন্দেগী
গ) ইসলামী উম্মাহর বর্তমান হালচিত্র

৪,দাওয়াতী আলোচনাঃ
ক) আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কর্মপদ্ধতি
খ) ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বয়ান

৫, হালক্বায়ে জিকির

৬, নামাযের আমলী মশ্ক

৭, পরিদর্শন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাৎ

৮, নতুন শাখা গঠন ও শাখার কার্যক্রম আলোচনা

উপরোল্লেখিত নিয়মিত কার্যক্রম ছাড়াও শাখা উপ শাখায় নিয়মিত মাসিক নির্বাহী বৈঠক, দ্বি মাসিক কর্মী, সংগঠক ও নক্বীব বৈঠক পরিচালনা করতে হবে এবং এ সকল বৈঠকে কেবল সংশ্লিষ্ট জনশক্তিবর্গই উপস্থিত থাকবে ৷

প্রয়োজন স্বাপেক্ষ কর্মসূচিঃ
সংগঠনে জনশক্তির মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে ৷ প্রশিক্ষণমূলক নিয়মিত দুটি কর্মসূচি রয়েছে-

ক) তা’লীমী মজলিসঃ
একদিন ব্যাপি নির্বাচিত জনশক্তিদের নিয়ে প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি

খ) তরবিয়তী মজলিসঃ
দুই বা ততোধিক দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহন করতে হবে।।

শেয়ার করুন
Scroll to Top