গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ইসলাম

মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।

Featureপ্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে বহুল পরিচিত ব্যবস্থা ২টি। যথাঃ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। ব্যবস্থা দুটি পরস্পর এতই বিপরীত মুখী যে, মানুষ একটির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য অপরটিকে গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু পরিণতিতে কোনটিতেই গণ মানুষ মুক্তি খোঁজে পায় না।
বৈশিষ্টঃ
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার কয়েকটি মৌলিক বৈশিষ্ট আছে। যেমন: ১. জনগণের শাসন। এ ছোট বাক্য দ্বারা যা বুঝানো হয় তা হচ্ছে, রাষ্ট্রএবং রাষ্ট্রের ক্ষমতা সব জনগণের হাতে। গণতন্ত্রের জনক আব্রাহাম লিংকনের ভাষায় গণতন্ত্র হচ্ছে, জনগণের সরকার জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হয়ে জনগণের জন্য কাজ করবে। ২. জনগণের সার্বভৌমত্ব। ৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। ৪. জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত থাকা।
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অর্থনীতির দিকটিই মূখ্য। তাই এ ব্যবস্থার মৌলিক বৈশিষ্ট নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলো আলোচনায় চলে আসে। অর্থনীতির ভাষায় উপার্জনের উপাদান চারটি। ১.ভূমি, ২.শ্রম, ৩.পুঁজি, ৪.উদ্যোগ। সকল প্রাকৃতিক উপাদান যেমন: পানি, বন, পাহাড় ইত্যাদি ভূমির অন্তর্ভূক্ত। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রথম বৈশিষ্ট হচ্ছে, উপার্জনের কোন উপাদান কোন ব্যক্তি মালিকানায় থাকবে না। উপার্জনের সকল উপাদান রাষ্ট্রের মালিকানায় থাকবে। অর্থাৎ দেশের সম্পূর্ণ ভূমির মালিক রাষ্ট্র। জনগণের শ্রমের মালিক রাষ্ট্র। সকল পুঁজির মালিক রাষ্ট্র। উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিকও রাষ্ট্র। দ্বিতীয় বৈশিষ্ট, ব্যক্তির চাহিদার দিকে লক্ষ রেখে দেশে উৎপাদন হয় না। বরং উৎপাদন হয় সমাজ ও রাষ্ট্রের চাহিদায়। তৃতীয় বৈশিষ্ট, ব্যক্তির সুবিধা গণ্য হয় না। রাষ্ট্রের সুবিধাই গণ্য হয়।
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রথম বৈশিষ্ট মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্ব। দ্বিতীয় বৈশিষ্ট আইনের উৎস কুরআন ও সুন্নাহ। তৃতীয় বৈশিষ্ট খলীফা বা রাষ্টপ্রধান হবেন মহান আল্লাহর প্রতিনিধি। চতুর্থ বৈশিষ্ট শূরা। মাজলিসে শূরার ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে। পঞ্চম বৈশিষ্ট জবাবদিহিতা।
অসুবিধাঃ
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রথম সমস্যা একই ব্যক্তি শাসক ও শাসিত। কেননা গণতন্ত্রের মূল স্লোগান জনগণের শাসন। অর্থাৎ জনগণ শাসন করবে। কাকে শাসন করবে? জনগণকে। তাহলে এ ব্যবস্থায় জনগণ জনগণকে শাসন করবে। শাসক যে জনগণ শাসিতও সেই জনগণ।
জন্মগত ভাবে সকল মানুষ সুবিধালোভী। শাসিতের ধর্ম শাসনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে নিজের সুবিধা ভোগ করা। শাসকের দায়িত্ব হচ্ছে শাসনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে শাসিত যেন অনিয়ম, অন্যায় করতে না পারে এ ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা। এখন যার কাজ নিয়ন্ত্রণ করা সেই যদি সুবিধাভোগী হয় তাহলে নিয়ন্ত্রণটা অকার্যকর হয়ে যায়। যার উপর আইন প্রয়োগ হবে সে-ই যদি আইন প্রণয়ন করে তাহলে অবশ্যই সে আইন প্রণয়নের সময় নিজের স্বার্থকে রক্ষা করার চেষ্টা করবে। নিজের স্বার্থ রক্ষা করে প্রণয়ন করা আইন কখনো ন্যায়পরায়ণ হয় না। তাই দেখা যায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন ও শাসন হয় অত্যন্ত দুর্বল। সকল জুলুম, অন্যায় ও দুর্নীতি গণতন্ত্র দ্বারা প্রশ্রয় পায়। একটা প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও নিয়োগদাতা যদি এক ব্যক্তি হয় তাহলে সে নিজের বেতন, ছুটি সহ যাবতীয় ভাতা নিজের মত করে ধার্য করবে। প্রতিষ্ঠান রসাতলে যাবে। বর্তমান দুনিয়ার যে সকল দেশ অতিমাত্রায় গণতান্ত্রিক সে সকল দেশে কোন অপরাধের জন্যই মৃত্যুদন্ড নেই। ব্যাভিচার সে সকল দেশের আইনে কোন অন্যায় নয়। সবার ভিতরে ব্যাভিচারের ইচ্ছা আছে। এ প্রেক্ষিতে কিছু ব্যাভিচারী মিলে যখন আইন বানাবে তখন অবশ্যই ব্যাভিচার কোন অন্যায়ের মধ্যে পড়বে না।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তুলনামূলক যাদের পক্ষে ভোট বেশি পড়ে তারা শাসনের দায়িত্ব পায়। এতে দেখা যায় একটা দেশে দল আছে তিনটা। নির্বাচনে ‘ক’ দল পেল কাস্টিং ভোটের ৩৪%, ‘খ’ দল পেল ৩৩%, ‘গ’ দল পেল ৩৩% অতএব, শাসনের দায়িত্ব পাবে ‘ক’ দল। দুনিয়ার বাস্তবতা হল সবাই ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যায় না। দেখা যায় প্রায় ৫০% লোক ভোট দেয় না। তাহলে যারা শাসন ক্ষমতায় যাচ্ছে তারা কিন্তু মোট জন গোষ্টীর ১৭% মাত্র। এই ১৭% লোক নিজেদের স্বার্থ চিন্তা করে আইন বানাবে ও দেশ শাসন করবে। বিপরীতে দেশের মোট জন গোষ্টীর ৮৩% লোকের স্বার্থ ক্ষুন্ন হবে। সার কথা জনগণের শাসন বলতে যা বুঝায় তা এ পদ্ধতিতে আদৌ বাস্তবায়িত হয় না। বরং জনগণের শাসনের নামে কিছু সুবিধালোভী স্বার্থবাজ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয় সমস্যা, গণতন্ত্রে সংখ্যা প্রাধান্য পায়, মান প্রাধান্য পায় না। এখানে একজন অসচেতন মূর্খের মতামত আর সমাজ সচেতন উচ্চশিক্ষিত মানুষের মতামতের মূল্য সমান। তাই গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান রাজনৈতিক দলগুলোও সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করে। এটা একটা অবৈজ্ঞানিক নিয়ম। ফলশ্রুতিতে গণতান্ত্রিক দেশে মানুষের মান ধীরে ধীরে অধঃপতনে যায়। কেননা সমাজে মানের চাহিদা নেই। চাহিদা হচ্ছে সংখ্যার। মানের চেয়ে সংখ্যার দাম কখনো বেশি হওয়া উচিৎ নয়।
তৃতীয় সমস্যা, এটা ব্যয়বহুল ব্যবস্থা। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট শীর্ষ থেকে নিয়ে প্রান্তিক পর্যন্ত বিশাল এক বাহিনীকে রাষ্ট্রের অর্থে লালন করে যেতে হয়। কয়দিন পর পর বিশাল ব্যয় সাপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করতে হয় ।
চতুর্থ সমস্যা, রাজনৈতিক দাঙ্গা, সংঘাত, অস্থিরতা। যে দল ক্ষমতায় যায় তারা যা আইন করে তা-ই আইন। সকল রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা সেই দলের কব্জায় থাকে। তাই অতি স্বাভাবিকভাবেই বিরোধী দলগুলো এবং তাদের কর্মী বাহিনী ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে।
পঞ্চম সমস্যা, সরকার অনেক সময় অস্থিতিশীল থাকে। সামান্য কিছু বেশি মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন হওয়ার কিছু দিন পরে যদি কিছু মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যায় তাহলেই সরকার নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এতে আবার নির্বাচনের ঝামেলা ও ব্যয়। সরকার স্থিতিশীলতা না পেলে রাষ্ট্রের কল্যাণে কিভাবে কাজ করবে?
গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এখানেই যে, গণ মানুষের শাসন বলতে যে মোহনীয় স্লোগানে সবাইকে মোহগ্রস্থ করা হয় তা কোন দিনও সম্ভব নয়। ক্ষমতার মূলা ঝুলিয়ে জাতিকে প্রতারিত করা মাত্র। জনগণকে বুঝানো হয় আপনার জন্য আমরা। আসলে তারা নিজেদের জন্য, নিজেদের স্বার্থে। গণতন্ত্রের সূতিকাগার আমেরিকাতে নির্বাচনের আগে জনগণকে নির্বাচন মুখী করার জন্য বিরাট আয়োজন হয়। এরপরেও শতকরা পঞ্চাশের মত মানুষ ভোট দিতেই যায় না। কেন? এতে যদি তাদের স্বার্থ থাকতো, তাদের সুবিধার প্রতিফলন থাকতো তাহলে তো তারা স্বতস্ফুর্ত হয়েই ভোট কেন্দ্রে যেত। তারা শিক্ষিত ও সচেতন তারা বুঝে নিয়েছে, তাদের অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে যে-ই ক্ষমতায় যাক তাদের কিছুই না। এতে লাভ, স্বার্থ, লোকসান আছে তাদের কর্মী বাহিনীর। কর্মীদের তুলনায় আবার নেতাদের লাভ-লোকসানের পরিমাণ অনেক গুণ বেশি।
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রথম অসুবিধা, দেশের আপামর জনগণ নিজেদেরকে শৃংখলিত ও বন্দী ভাবে। গোটা দেশ একটি বৃহৎ কারাগার হয়ে যায়। কেননা একজন নাগরিক কি করবে না-করবে এ ব্যাপারে সে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
দ্বিতীয় অসুবিধা, এভাবে থাকতে থাকতে ব্যক্তির সৃজনশীলতার উন্মেষ ঘটে না। নাগরিকের নিজের থেকে কিছুই করার কোন সুযোগ না থাকায় আল্লাহ প্রদত্ত উদ্ভাবনী চিন্তা শক্তি বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় না। এ শক্তি ব্যবহৃত না হতে হতে এক সময় সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে।
তৃতীয় সমস্যা, কমিউনিজমের মূল স্লোগান শ্রেণী বৈষম্যের বিলোপ সাধন অথচ সমাজতন্ত্র যে বিশাল শ্রেণী বৈষম্য তৈরি করে গণতন্ত্র ঐ পরিমাণ বৈষম্য তৈরি করে না। গণতান্ত্রিক দেশে যে কারো মালিক হওয়ার পথ খোলা থাকে। ফলে জনগণের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ সম্পদের মালিক হয়ে থাকে। দেশের জনসংখ্যা যদি এক কোটি হয় হয়তো ১% লোকের হাতে দেশের অধিকাংশ সম্পদ চলে যায়। এক লক্ষ মানুষ হয়ে যায় পুঁজিপতি। বাকি নিরানব্বই লক্ষ মানুষ হয়ে যায় মধ্য বিত্ত বা নিম্ন মধ্য বিত্ত ইত্যাদি। সম্পদের পরিমাণ কম হোক তবুও তাদের কাছে সম্পদ তো থাকে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক দেশে জনগণের মালিক হওয়ার কোন সুযোগ নেই। দেশের গোটা ভূ-সম্পদ, পুঁজি, শ্রম ইত্যাদি সব কিছুই শুধু মাত্র রাষ্ট্রের মালিকানায় থাকে। রাষ্ট্রের মালিকানার অর্থ হচ্ছে গোটা দেশের সকল ধরণের সম্পদ সরকার তার ইচ্ছা মত ব্যবহার করবে। সরকারের অর্থ হচ্ছে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ জন ব্যক্তি। ফলে এক শ্রেণিতে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ জন গোটা দেশের সকল ধরণের সম্পদের কর্তা অপর শ্রেণীতে নিরানব্বই লক্ষ নিরানব্বই হাজার নয় শত পঞ্চাশ জন বাস্তুহারা। এখানে শ্রেণী বৈষম্য পথে-ঘাটে, হাটে-গঞ্জে দেখা যায় না। পুঁজিপতির সংখ্যা অতি নগণ্য হওয়ায় তারা সাধারণের চোখে পড়ে না। সাধারণ মানুষ ভাবে যাদেরকে দেখতেছি তারা সবাই তো আমার সমান। একটা মাঠে যদি দশটা করে গরুর পিছনে একটা করে রাখাল থাকে তখন গরুরা ভাবে মানুষ না হয়ে ভুল করেছি। কিন্তু মাঠে যদি একটা রাখাল থাকে আর মাঠ ভরা গরু থাকে তখন গরুরা ভাবে আমাদের জীবন স্বার্থক। আমরা সবাই সমান। আসলে তো গরুগুলো গরুই আছে। সমাজতন্ত্রেও দেশে জনগণের অবস্থা মাঠ ভরা গরুর মত। এরা এক রাখালের ইচ্ছা মত খাটতে থাকে। গণতন্ত্রেও দেশে বঞ্চিতদের অনুপাতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা স্বল্প হলেও মোটে বেশি হয়। আর সমাজতন্ত্রেও দেশে সুবিধাভোগীদের সংখ্যা মোট সংখ্যাতেও একে বারে কম থাকে। বঞ্চিতদের চেয়ে ভোগীদের সংখ্যা যত কম হয় বৈষম্য ততো বেশি ও তীব্র হয়। সমাজতন্ত্রে যে শ্রেণী বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সেই শ্রেণী বৈষম্য এখানে আরো জটিল, আরো তীব্র, আরো প্রকট, আরো জঘন্য।
চতুর্থ সমস্যা, বাস্তবে এ দর্শন আদৌ আমল যোগ্য নয়। দেশের সকল নাগরিকের স্বাধীনতা, সৃজনশীলতা, উদ্যমকে খতম করে দিয়ে একটা সমাজ ও রাষ্ট্র চলতে পারে না।
একটি পরিবারের সদস্যরা উন্নতির কোন চেষ্টা করে না। খায় আর এক খন্ড জমিতে কিছু শ্রম দেয়। দিন যায় তাদের আর কোন চিন্তা নেই। কিন্তু পাশে আর এক পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ ধান্ধায় কেউ চাকরি কওে কেউ ব্যবসা করে, কেউ বিদেশে আছে, কেউ অন্য আরো কিছুর চেষ্টা করে। একটা দীর্ঘ সময় যাওয়ার পর দেখা যাবে দু পরিবারের সদস্যদের মাঝে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। সমাজতন্ত্র আর অন্য রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে এ রকম ব্যবধান। কিছু দিন পরে সমাজতন্ত্রের জনগণ দেখবে আমরা সবাই সমান আছি ঠিকই, কিন্তু পাশের রাষ্ট্রে বৈষম্য সত্ত্বেও যে সব চেয়ে নীচে আছে তার অবস্থা আমার চেয়ে অনেক ভাল। এ অসুবিধার কারণে মোহনীয় স্লোগানে মানুষকে মুগ্ধ করে বিপ্লব ঘটানোর চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছরের মাথায় সমাজতন্ত্র ভেঙ্গে পড়ে। এ স্লোগানে মানুষকে মোহগ্রস্থ করা খুব সহজ। কেননা মানুষকে যখন বলা হয় জহুরুল ইসলাম, সালমান এফ রহমান আর আপনার ঘর, বিছানা, বালিশ এক রকম হবে তখন মানুষ খুব আগ্রহী হয়ে উঠে। কিন্তু যখন দেখে, দেশের উন্নয়ন, প্রগতি থমকে গেছে উল্টো কারাগারের বন্দী জীবন যাপন করতে হচ্ছে তখন মানুষের ভুল ভাঙ্গে।
পার্থক্যঃ
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি তিনটি জিনিসের উপর। যথা: ১.তাউহীদ, ২.রিসালাত, ৩.খিলাফাত। তাউহীদের অর্থ দেশের সার্বভৌমত্বের মালিক আল্লাহ। রিসালাতের অর্থ মালিক আল্লাহর প্রতিনিধি হলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। খিলাফাতের অর্থ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিনিধি, খলীফা। রসূল বা খলীফার নিজস্ব কোন পাওয়ার বা শক্তি নেই। তাদের শক্তির ভিত্তি হল তারা মহান আল্লাহর প্রতিনিধি। পক্ষান্তরে গণতন্ত্রে সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ। সমাজতন্ত্রে সার্বভৌমত্বের মালিক সরকার।
সমাজতন্ত্রে ও গণতন্ত্রে ধর্মের সাথে রাষ্ট্রের কোন সম্পর্ক থাকে না। পক্ষান্তরে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রসম্পূর্ণ ধর্ম নির্ভর।
ইসলামী আইনের উৎস আল্লাহর কুরআন ও নবীর সুন্নাহ। গণতন্ত্রে আইনের উৎস অধিকাংশ জনগণের মত। নীতি-নৈতিক তার কোন প্রশ্ন নেই, বাস্তব-অবাস্তবের কোন কথা নেই অধিকাংশ মানুষ যা চাবে তা-ই আইন । সমাজতন্ত্রে আইনের উৎস সরকার।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকারের জবাবদিহিতা জনগণের কাছে। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সরকারের কোথাও কোন জবাবদিহিতা নেই। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সরকারের জবাব দিহিতা দু জাগায়। জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে। সরকারের যে কোন কর্মকান্ডের উপর দেশের যে কোন স্তরের জনগণ প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে। সরকার তার কাছে জবাব দিতে বাধ্য থাকবে। শুধু জনগণকে জবাব দিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলেই যথেষ্ট হবে না মহান আল্লাহর কাছেও সরকারকে জবাব দিতে হবে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সংসদ থাকা বাধ্যতামূলক। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংসদ থাকা জরুরি নয়। থাকতেও পারে, নাও পারে। গণতন্ত্রের সংসদ সার্বভৌম হয়ে থাকে। যে কোন আইন রচনা করার, বাতিল করার, স্থগিত করার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা সংসদের থাকে। জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিফলিত হয়ে থাকে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদের সার্বভৌমত্বের দ্বারা। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যেহেতু সংসদ থাকা জরুরি নয় সেহেতু সংসদ থাকলেও তার তেমন কোন ভূমিকা থাকে না। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংসদ বলতে বুঝাবে মাজলিসে শূরাকে। সেই মাজলিসে শূরার ক্ষমতা আছে। আইন করার, আইন পরিবর্তন করার, আইন বাতিল করারও ক্ষমতা আছে কিন্তু নিরঙ্কুশ নয়। শূরার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত হবে ইসলামী শরিয়াত দ্বারা। কুরআন, সুন্নাহ ও শরিয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক কোন আইন তারা করতে পারবে না।
গণতন্ত্রে শাসক নির্বাচিত হবে জনগণের হাতে। সকল জনগণ এ ভোটে অংশ নিতে পারবে। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শাসক নির্বাচন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। শাসক এক জন হলে-ই হয়, যে সমাজতন্ত্রের নীতিমালা অনুসরণ করবে। পরিবর্তনের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শাসক মনোনিত করবে প্রয়োজনে পরিবর্তন করবে আহলুল হল ওয়াল আকদ। আহলুল হল ওয়াল আকদ বলতে বুঝায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ও পারদর্শীগণ।
ইসলামে নেতৃত্ব অধিকারের নাম নয় বরং দায়িত্বের নাম। গণতন্ত্রে নেতৃত্ব একটি অধিকারের নাম। অধিকারের সাথে গভীর সম্পর্ক থাকে ভোগের আর দায়িত্বের সাথে সম্পর্ক থাকে ত্যাগের। যে অধিকার চায় তার ইচ্ছা ভোগ করার। অধিকারের দাবি করার অর্থ হচ্ছে ভোগের দাবি করা। ইসলামে নেতৃত্ব হচ্ছে দায়িত্ব। আর দায়িত্ব হচ্ছে বোঝা। তাই ইসলামে নেতৃত্ব চেয়ে নেওয়ার জিনিস নয়।

রাষ্ট্র ব্যবস্থাগুলোর মাঝে পার্থক্য
বিষয়ইসলামী রাষ্ট্রগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র
সার্বভৌমত্বআল্লাহরজনগণেরসরকারের
ধর্মইসলাম ভিত্তিকধর্ম মুক্তধর্ম মুক্ত
আইনের উৎসশারিয়াতজনগণসরকার
জবাবদিহিতাজনগণের কাছে ও আল্লাহর কাছেজনগণের কাছেকোথাও নয়
নির্বাচনআহলুল হাল ওয়াল আকদ কর্তৃকসকল জনসাধারণ কর্তৃককোন মূখ্য বিষয় নয়
নেতৃত্বদায়িত্ব, প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেইঅধিকার, প্রার্থী হতে হয়

অসুবিধার মিমাংসাঃ

গণতন্ত্রের প্রথম সমস্যা আইনের প্রণেতা এবং আইনের প্রয়োগ স্থল একই ব্যক্তি। ফলে শাসকের সুবিধা ও স্বার্থ মোতাবেক আইন হয়। কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্রে আইনের মূল প্রণেতা মহান আল্লাহ। খলীফা আল্লাহর আইনের বাইরে যেয়ে কোন আইন জারি করতে পারে না। ফলে খলীফা ও জনগণ সবাই মহান আল্লাহর আইন দ্বারা শাসিত হয়।
গণতন্ত্রে সংখ্যার প্রাধান্য। মানের প্রাধান্য নেই। পক্ষান্তরে ইসলামে মানের প্রাধান্য সংখ্যার প্রাধান্য নেই। গণতন্ত্রিরা সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করে। মান বাড়ানোর চেষ্টা করে না। অথচ সংখ্যা প্রাকৃতিক ভাবে এমনি এমনি বাড়ে।
গণতন্ত্র একটা বিশাল ব্যয়বহুল ব্যবস্থা। ইসলামে অহেতুক এ ধরণের ফালতু ব্যয়ের প্রয়োজন নেই। দুই দিন পর পর খলীফা পরিবর্তনের সুযোগ ইসলামে নেই। ইসলামে খলীফা নির্বাচন একবার হবে। যতদিন তিনি দায়িত্ব পালনের জন্য দৈহিক ও মানসিক সামর্থবান থাকবেন তত দিন তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন। হ্যাঁ, যখন তিনি শক্তি, সামর্থ, নীতি হারিয়ে ফলেন তখন আহলুল হাল ওয়াল আকদ খলীফা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিবে। যদি আধুনিক ধরণের নির্বাচনের প্রয়োজনও পড়ে তথাপিও খরচের পরিমাণ অনেক সীমিত হবে এবং তা বারবার হবে না। কেননা, এখানে প্রার্থী হওয়ার কোন সুযোগ নেই। ফলে ভোটার পক্ষে টানার জন্য প্রচারণার কোন ব্যয় নেই। আর এখানে ভোটার সর্বস্তরের জনগণ নয় বরং আহলুল হাল ওয়াল আকদগণ ভোটার হবেন। এক্ষেত্রে ব্যয় হবে শুধু অস্থায়ী নির্বাচন কমিশনের অফিস খরচ। যেহেতু খলীফা পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ সেহেতু স্থায়ী ভাবে কমিশন রাখার কোন প্রয়োজন নেই।
গণতন্ত্রের অন্যতম একটা অসুবিধা অনিবার্য রাজনৈতিক সংঘাত। ইসলামে একাধিক দল গঠনের বাধ্যবাধকতা নেই। কোন বিরোধী দল নেই। তাই প্রথাগত সংঘাত নেই। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোতে যেভাবে দলের নেতা নির্বাচিত হয়ে থাকে ও দল পরিচালিত হয়ে থাকে প্রায় ঐ ভাবেই দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।। গণতন্ত্রের রাজনৈতিক দলে গঠনতান্ত্রিক ভাবে স্বীকৃত কোন দলাদলি থাকে না, দলের ভিতরে আবার একাধিক দল থাকে না। দলের কাউন্সিলারগণ পরামর্শের ভিত্তিতে বা ভোটের ভিত্তিতে দলের প্রধান নির্বাচিত করেন। দলের ভিতরে দল প্রধানের কোন বিরোধী পক্ষ দলীয় ভাবে স্বীকৃত থাকে না। আবার দলীয় প্রধানের কাজের সমালোচনাও দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা করে থাকেন। দলীয় প্রধান পরামর্শের ভিত্তিতেই দল পরিচালনা করে থাকেন। এ পদ্ধতিতে যদি গণতন্ত্রের বৃহৎ বৃহৎ দল পরিচালিত হতে পারে তাহলে দেশও পরিচালিত হওয়া সম্ভব। প্রশ্ন উঠতে পারে, কার্যকর বিরোধীদল না থাকলে শাসক স্বৈরাচারী হয়ে উঠবে। এর উত্তরে বলব, দলের ভিতরে দলিয় প্রধানের স্বৈরাচারী মনোবৃত্তি যে ভাবে প্রতিহত হয়ে থাকে দেশেও সে ভাবেই হবে। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মাজলিসে শূরার প্রত্যেক সদস্য গণতন্ত্রের বিরোধী দলের মত ভূমিকা পালন করে থাকে। তারা দেশ ও খলীফার কল্যাণকামী হয়ে খলীফার ভুলের গঠন মূলক সমালোচনা ও পর্যালোচনা সততার সাথে মাজলিসে শূরাতে করবেন। তবে নিছক বিরোধিতার জন্য তাদের বিরোধিতা নয়। তাদের বিরোধিতা পরামর্শ মূলক। একটা কাউন্সিল একটা স্ট্যান্ডিং কমিটি যদি একটা দল পরিচালনা করতে পারে তাহলে দেশও পারবে। আলাদা আলাদা কাউন্সিল গঠন করে জাতিকে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত করে গ্রুপ গুলোর ভিতরে লোভ ও সংঘাত তাজা রেখে দেওয়া জাতির উন্নয়নের জন্য বড় বাঁধা। ইসলামের পদ্ধতি হল, দেশের সকল যোগ্যতা সম্পন্নদের নিয়ে আহলুল হাল ওয়াল আকদ গঠন হবে। তারা পরামর্শ করে বা ভোট দিয়ে নিজেদের মধ্যে একজনকে খলীফা বানাবে এবং খলীফার জন্য মাজলিসে শূরা নিয়োগ দিবে। খলীফা মাজলিসে শূরার সাথে পরামর্শ করবেন ও রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের নিয়ে দেশ চালাবেন। আহলুল হাল ওয়াল আকদ খলীফার কার্যাবলী পর্যবেক্ষণ করতে থাকবে। এখানে এত ভাগ এত স্তরের প্রয়োজন নেই। সচিব সব কাজ করে থাকেন এখানে আবার আরেক জনকে মন্ত্রী বানানোর কী প্রয়োজন। মন্ত্রীর আবার উপদেষ্টা আবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কাগজে অনেক সুফল লেখা যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে চোরের সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া এগুলোর কার্যকর আর কোন সুফল নেই।
গণতন্ত্রের স্লোগান জনগণের মত বাস্তবায়ন। অথচ বাস্তবে তা অবাস্তব, অসম্ভব। জনগণের মতের নামে কিছু সংখ্যক মানুষের মত বাস্তবায়ন করা হয়। সমাজতন্ত্রের স্লোগান শ্রেণি বৈষম্য খতম করা। অথচ বাস্তব জীবনে সমাজতন্ত্র শ্রেণী বৈষম্য খতমতো করতে পারেই না বরং কয়েকজনকে দেশের গোটা সম্পদের একচ্ছত্র মালিক বানিয়ে আরো কঠিন দুর্ভেদ্য শ্রেণি বৈষম্য সৃষ্টি করে। পক্ষান্তরে ইসলামের দাবি জনগণের কল্যান বাস্তবায়ন করা। জনগণের কল্যাণ কোন পথে বেশি তা জানেন মহান আল্লাহ। অতএব, মহান আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের মাঝেই জনগণের সত্যিকারের কল্যাণ রয়েছে। জনগণ যেহেতু লক্ষ লক্ষ তাই সকলে মিলে সকলের কল্যাণ নির্ধারণ সম্ভব না। কিন্তু আল্লাহ যেহেতু একজন। আর তিনি নিরপেক্ষ, কারো পক্ষে নয় তাই তাঁর পক্ষেই সম্ভব সকলের কল্যাণ নির্ধারণ করা। তাঁর দেওয়া মৌলিক নীতিমালার আলোকেই যেহেতু দেশ পরিচালিত হবে অত এব সকল জনগণের মতামত জানার দরকার নাই। গণতন্ত্রে ও সমাজতন্ত্রে রয়েছে স্ববিরোধিতা। ইসলামে ঐ ধরণের কোন স্ববিরোধিতা নেই অবাস্তব স্লোগান নেই। ইসলাম বলতেছে দেশ চলবে খেলাফত ব্যবস্থায়। খলীফা হবেন মহান আল্লাহর প্রতিনিধি। তিনি নিয়োজিত থাকবেন জনগণের কল্যাণে। তিনি জনগণের কল্যাণ করতে সফল হচ্ছেন কি-না তা দেখবে আহলুল হাল ওয়াল আকদ।
সমাজতন্ত্রে ব্যক্তির স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নাগরিকের সকল ধরণের ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকে। মালিকানার স্বাধীনতা, উপার্জনের স্বাধীনতা, ভোগের স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ইত্যাদি। তবে কুরআনের কিছু মৌলিক বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে যেন তারা স্বাধীনতা অন্যের কষ্টের কারণ না হয়।
সমাজতন্ত্রের দ্বারা মানুষের সৃজনশীলতা খতম হয়। কেননা নাগরিকের নিজ উদ্যোগে নিজ ইচ্ছায় কোন কিছু করার সুযোগ নেই। ইসলাম যেহেতু প্রত্যেক নাগরিককে তার ইচ্ছা মত যে কোন কিছু করার স্বাধীনতা দিয়েছে তাই ইসলামী সমাজে মানুষের সৃজনশীলতা ধ্বংস হয় না।
সমাজতন্ত্র সরকারকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দিয়ে শ্রেণী বৈষম্যের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কাউকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া হয় নাই। জনগণের কোন সম্পদের উপর কাউকে কর্তৃত্ব খাটানোর সুযোগ দেওয়া হয় নাই। তাই কিছু মানুষের এখানে আলাদা সুবিধাভোগী হয়ে উঠার সুযোগ নেই। আবার পুঁজিবাদের মত এক শ্রেণী বল্গাহীন ধনী হওয়ার সুযোগও এখানে নেই। কেননা যাকাতের বিধান তো আছেই। যাকাতের বিধানের কারণে ইসলামী সমাজে ধনী যত ধনী হবে গরিবের ততো লাভ। গরিবের প্রাপ্ত যাকাতের পরিমাণ বাড়বে। গরিবের নিঃশর্তে প্রাপ্ত দায়মুক্ত ক্ষুদ্র কর্মসংস্থানের পুঁজির পরিমাণ বাড়বে।
সমাজতন্ত্রের নীতিমালা বাস্তবে ঘটা সম্ভব নয়। কেননা তা মানুষের স্বভাব বিরোধী। কিছু দিন সমাজে চলার পরে তা সমাজ চালাতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু ইসলামে কোন দুর্বল দিক নেই তাই ইসলাম সর্বকালের জন্য সমান ভাবে প্রযোজ্য।
ইসলাম যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা দিয়েছে তা ভারসাম্যপূর্ণ একটি ব্যবস্থা। ধনী-গরিব, শাসক-শাসিত সকলের জন্য সমভাবে কল্যাণকর ব্যবস্থা।

শেয়ার করুন
Scroll to Top