নির্দেশিকা

ইতিহাসের ধারায় যুব মজলিস

মহান আল্লাহ জাল্লাশানুহু তার মহান দ্বীনকে নবী আলাইহিমুচ্ছালামগণের মাধ্যমে আদর্শগত ও প্রমাণগতভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে প্রেরণ করেছেন। সেই সাথে ব্যবহারিক জীবনেও আল্লাহর সুমহান দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য নবীদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ সা. দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের লক্ষ্যে জগতে খেলাফত প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। তারপর চার খলিফা খেলাফতে রাশেদার মাধ্যমে দ্বীনের বিজয়কে আরও সম্প্রসারিত করেছেন। খেলাফতে রাশেদার পর সর্বোচ্চ মানের না হলেও দ্বীন বিজয়ের লক্ষ্যে খেলাফতের ধারা এ জগতে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত সাড়ে তেরশত বছর অব্যাহত ছিল।

ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন পশ্চিমাগোষ্ঠী ও তাদের পা চাটা গোলাম কামাল আতাতুর্ক কর্তৃক তুর্কী খেলাফত ধ্বংসের মাধ্যমে এ জগৎ থেকে রাষ্ট্রীয় খেলাফতের শেষ চিহ্নটুকু মুছে ফেলা হলে ভারত উপমহাদেশের এক বিপ্লবী সাধক মহাপুরুষ শাইখুল হিন্দ মাহমুদ হাসান রহ. ‘তাহরীকে খেলাফত’ নামে সেই হারানো খেলাফত পূনরুদ্ধারে আওয়াজ তোলেন। উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে যা বিশাল ভূমিকা পালন করেছে।

কালক্রম ও পূর্বসূরী সংগ্রামী পুরুষদের সংগ্রাম ও সাধনার ধারাবাহিকতায় তাহরীকে খেলাফতের ছয় দশক পরে স্বাধীন বাংলাদেশে এক মহান বুযুর্গ হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. ১৯৮১ সালে খেলাফত আান্দোলন নামে সে আওয়াজের প্রতিধ্বনি তোলেন। হযরত হাফেজ্জীর ডাকে খেলাফতের পক্ষে গড়ে ওঠা গণজাগরণকে স্থায়ী ও সাংগঠনিক রূপদান করতে ইসলামী আন্দোলনের মহান রাহবার শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার চলমান এই প্রচেষ্টাকে আরো বেগবান করার লক্ষ্যে আহলুস্সুন্নাহ ওয়ালজামাআতের আদর্শের ভিত্তিতে যুব ও তরুণ প্রজন্মের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সংগঠন গড়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে ২৯ মে ২০০৯ পবিত্র জুমার দিনে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররম থেকে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস।

যেভাবে শুরু হয় যুব মজলিসের কাজ

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কাজ শুরু করা হয়েছিল দুটি প্রাথমিক চিন্তার উপর-
এক. সংগঠনের কাজ শুরু করা হবে শূন্য থেকে অর্থাৎ কারা কারা সংগঠনের দায়িত্বে থাকবে তা আগাম নির্ধারণ করা হবে না। বরং কাজের মাধ্যমে নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে।
কী হবে সংগঠনের কাঠামো বা কী কী ফোরাম থাকবে, এগুলো কিছুই নির্ধারণ করা হয়নি। উদ্দেশ্য ছিল, সংগঠনের বিষয়ে পরামর্শ করার মতো কিছু লোক আগে নির্ধারিত হোক। তারাই পরামর্শক্রমে সব বিষয় ঠিক করবে। তবে ‘একাধিক ব্যক্তি একসাথে কোনো কাজ করলে একজনকে আমীর নির্ধারণ করে নিতে হয়’ শরয়ী এই বিধানের আলোকে কেবলমাত্র একজনকে পরামর্শের মাধ্যমে অস্থায়ী আমীর নির্ধারণ করে নিয়ে কাজ চালানো হয়েছে।

সংগঠনের প্রাথমিক পরামর্শের চেয়ারে কারা বসবে সেটা এমনিতেই নির্ধারণ না করে কিছু প্রাথমিক মানদন্ড তৈরি করে নেয়া হয়েছে। এভাবে কারা প্রকৃত সংগঠনের জন্য আন্তরিক, সক্রীয় ও পরামর্শের উপযুক্ত সেটা কারো ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে নির্ধারণ না করে মানদন্ডের ভিত্তিতে মানোন্নয়ন করে করা হয়েছে। যেন সংগঠনের সূচনাটা সুন্দর সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়।

এভাবেই প্রায় বছর খানেক কাজ চলার পর পূর্বনির্ধারিত সেই মানদন্ডের আলোকে কিছু ভাই মানোন্নীত হয়ে প্রাথমিক পরামর্শ মজলিস গঠিত হয়। এর পর সেই পরামর্শ মজলিস থেকেই পরামর্শের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কাজ অগ্রসর হয়েছে।
দুই. সংগঠনের কাজ কী হবে, জনশক্তির দায়িত্ব কী হবে, মানোন্নয়ন কী ভাবে হবে প্রভৃতি বিষয়গুলো তৈরি করার জন্য একটা সময় পর্যন্ত সংগঠনের কাজ চলবে ঘরোয়া কর্মসূচিভিত্তিক। এক দিকে পরামর্শের মাধ্যমে কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে, অপর দিকে সেগুলো চর্চা করে করে সংগঠনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করা হবে। এভাবে প্রস্তুতি পর্বের টার্গেট নিয়ে এবং দুটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ চালানো হয়েছে। লক্ষ্য দুটি ছিল-

ক. সংগঠনকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার উপযুক্ত ও আন্তরিক দায়িত্বশীলের একটি জামাত তৈরি হবে।
খ. সংগঠনের কর্মসূচি ও কাঠামো নিয়ে একটি স্বকীয় রূপরেখা তৈরি হবে।

যুব মজলিসের মৌল দৃষ্টিভঙ্গি

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস তার যাবতীয় নীতি, পলিসি, কাঠামো ও কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে মৌলিক কিছু দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম কয়েকটি নিম্নরূপ-
১. সার্বিক বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কেরাম তথা আহলুস্সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আদর্শ অনুসরণ করা। আর এক্ষেত্রে দেওবন্দী চিন্তা-ধারাকে সর্বোচ্চ মানদ-রূপে বিবেচনা করা। কেননা সমকালীন ও উপমহাদেশের ইতিহাসে দ্বীনী চিন্তা-ধারায় ভারসাম্য ও দ্বীনের জন্য ত্যাগ-কুরবানীর যে ইতিহাস দেওবন্দী ধারার পূর্বসূরীগণ স্থাপন করেছেন তা এক কথায় নযিরবিহীন। ইসলামের সর্বদিকের সুন্দরতম সমন্বয়ের সমকালীন দৃষ্টান্তই হলো দেওবন্দী ধারা এবং বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস এই ধারার গর্বিত উত্তরাধিকার।

২. প্রচলিত আন্দোলন ও সাংগঠনিক ধারায় যে সকল প্রচলন বা ট্র্যাডিশন রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে স্বাধীন চিন্তার উপর চলা। অর্থাৎ এগুলোকে অনুসরণ করতেই হবে অথবা অনুসরণ করাই যাবে নাÑ এমন কোনটাই নয়। বরং সাংগঠনিক সংস্কারচিন্তার আলোকে পরামর্শক্রমে যতটুকু অনুসরণের সিদ্ধান্ত হয় ততটুকু অনুসরণ করা। আর যতটুকু উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয় ততটুকু উপেক্ষা করা। বিশেষত, প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার ট্র্যাডিশনের সামনে নি:শর্ত আত্মসমর্পণের হীনমন্যতাকে প্রশ্রয় না দেয়া।

৩. বুযুর্গানে দ্বীন ও পূর্বসূরিদের কার্যকলাপকে যতটা বেশি সম্ভব সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা। তালীম, তাবলীগ ও সুলূকের লাইনে যে সকল কর্মপন্থা অবলম্বন করা হয়েছে, প্রয়োজনে সেগুলোকে দৃষ্টান্ত হিসাবে অনুসরণ করা। সেইসাথে অন্যান্য মহলের অনুসৃত ভালো ও উত্তম কর্মকা-কেও সংগঠনে সমন্বয় করার উদার দৃষ্টিভঙ্গি লালন করা, যদি তাতে শরয়ী কোনো আপত্তি না থাকে। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে-
الكلمة الحكمة ضالة المؤمن فحيث وجدها فهو احق بها
অর্থাৎ হিকমতপূর্ণ কথা মুমিনের হারিয়ে যাওয়া সম্পদের ন্যায়, যেখানেই পাওয়া যাবে (অপাত্রে পেলেও) মুমিন ব্যক্তি সেটা গ্রহণ করার সর্বাধিক উপযুক্ত।’ (তিরমিযী, ইবনে মাযাহ যয়ীফ সনদের হাদীস)

৪. উদ্ভূত নতুন পরিস্থিতিতে জুমহুর ওলামায়ে কেরামের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সহমত পোষণ করা।

৫. প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির চেয়ে দ্বীনী মেযাজকে সমুন্নত রাখার পন্থা অবলম্বন করা।

৬. পরিভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরেট রাজনৈতিক চিন্তার চেয়ে আরবী ও ইসলামী ভাবধারা রক্ষার চিন্তাকে প্রাধান্য দেয়া।

যুব মজলিসের কার্যক্রম

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস পূর্ণাঙ্গ ইসলামী আন্দোলনের চিন্তায় বিশ্বাসী। জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই সংগঠন তার কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। যার বাস্তবায়ন সংগঠনের সকল জনশক্তির জীবনে পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করার মাধ্যমেই সম্ভব। যুব মজলিস তার এই লক্ষ্য অর্জনে আন্দোলন ও সংগ্রামী কর্মসূচির পাশাপাশি গঠনমূলক দুই ধরনের কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে।
ক. ব্যক্তিগত
খ. শাখাগত বা সামষ্টিক
ব্যক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘নেযামুল আমাল’ প্রণয়ন করেছে। নেযামুল আ’মালের অনুসরণ ব্যক্তির জীবনকে পরিশীলিত করবে ইনশাআল্লাহ। সংগঠনের সদস্য, কর্মী, সংগঠক ও নক্বীব প্রত্যেক স্তরের জনশক্তির জন্য ভিন্ন ভিন্ন কাজের নির্দেশনা দিয়ে প্রণীত হয়েছে ‘নেযামুল আমাল’। জনশক্তির দ্বীনী ও সাংগঠনিক জীবনের উত্তম পাথেয় এই ‘নেযামুল আমাল’।
আর সমষ্টিগত কার্যক্রম দুই প্রকার।
এক. নিয়মিত
দুই. প্রয়োজন স্বাপেক্ষে

নিয়মিত কর্মসূচি
নিয়মিত কর্মসূচি আবার তিন ধরনের।
১. সাপ্তাহিক
২. মাসিক ও
৩. ত্রৈমাসিক

সাপ্তাহিক কর্মসূচি
সংগঠনের প্রতিটি শাখা, উপশাখা প্রতি সপ্তাহে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে এবং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে নিম্নোক্ত চারটি কাজ করবে।

১. দাওয়াতী মজলিস
দ্বীন ও সংগঠনের দাওয়াত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি। এতে সংগঠনের নির্ধারিত (প্রথমিক) দাওয়াতী বক্তব্যসমূহ উপস্থাপন করতে হবে।
সংগঠনের নির্ধারিত বক্তব্যসমূহ হচ্ছে-
ক. ইসলামের মূল তিন কাজ
খ. দ্বীন বিজয়ের চার স্তর
গ. ইসলামী আন্দোলনের বুনিয়াদ
ঘ. ইসলামী আন্দোলনের কাজ

২. হালক্বায়ে তা’লীম
কুরআন, হাদীস, আকীদা, মাসআলা-মাসায়েল ও ইসলামী জীবনব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে কিতাবী ও মৌখিক তা’লীমের আয়োজন করতে হবে।

৩. ইজতেমায়ী দাওয়াত
সম্মিলিতভাবে মানুষের কাছে গিয়ে গিয়ে দাওয়াত পৌঁছানো।এজন্য সংগঠনের দাওয়াতী বক্তব্যসমূহের সাহায্য নিতে হবে।

৪. ইসলাহী মজলিস
শবগুজারীর আমলসহ এই কর্মসূচি পালন করতে হবে। জনশক্তির মধ্যে রূহানিয়াতের শক্তি সঞ্চয় এই কর্মসূচির লক্ষ্য। তাক্বওয়া, তাযকিয়া ও আমলের জযবা পয়দা করার উদ্দেশ্যে এসলাহী মজলিস করতে হবে।
সাপ্তাহিক ভিত্তিতে উপরোক্ত চার কর্মসূচির প্রথম তিনটি প্রতিটি শাখা উপশাখায় বাস্তবায়ন করতে হবে। আর এসলাহী মজলিস করতে হবে বৃহত্তর অঞ্চলের যৌথ উদ্যোগে।
এসলাহী মজলিস সংগঠনের মাসিক এজতেমার ফায়দা দিবে।

ইসলাহী মজলিসের কর্মসূচি

এসলাহী মজলিসে নিম্নবর্ণিত কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকবে-
ক) সালাতুল এশার পূর্বে মসজিদে উপস্থিতি ও তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়
খ) মসজিদের আদব বয়ান
গ) ইসলাহী বয়ান
ঘ) খানার আদব বয়ান ও খাবার গ্রহণ
ঙ) শেষ রাতে ক্বিয়ামুল্লাইল আদায়
চ) হালক্বায়ে যিকির
ছ) বাদ ফজর সূরা য়াসীন তেলাওয়াত
জ) সালাতুদ্দোহা আদায়

বি. দ্র.
১. সপ্তাহের একটি দিনকে সাংগঠনিক এই কর্মসূচিগুলোর জন্য নির্ধারণ করতে হবে এবং সেই দিনটি শুক্রবার হলেই ভালো হয়। বৃহস্পতিবারও হতে পারে।
২. দাওয়াতী মজলিস, হালক্বায়ে তা’লীম ও ইজতেমায়ী দাওয়াতের আগে প্রতিটি কর্মসূচিতে নিয়মিতভাবে কুরআন-হাদীসের দরসের আয়োজন করতে পারলে ভালো হয়। সংগঠনের নির্বাচিত দরসের সিরিজ আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ও শাখার পক্ষ থেকে আলোচক থাকবে, যারা শাখা উপশাখাগুলোতে সেই আলোচনা উপস্থাপন করবে।
৩. মাসে সাধারণত চারটি শুক্রবার/বৃহস্পতিবার হিসাবে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে চার কর্মসূচি নির্ধারন করা হয়েছে। কোন মাসে পাঁচ শুক্রবার হলে পঞ্চম শুক্রবার উপরোক্ত চার কর্মসূচির মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট শাখায় যেই কর্মসূচির প্রয়োজন অনুভব হবে সেটা বাস্তবায়ন করবে।
মাসিক কর্মসূচি
শাখা ও উপশাখা মাসিক ভিত্তিতে দুটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

ক) দাওয়াতী সফর
নিজ শাখার বাইরে দাওয়াত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সফর করতে হবে। দিন ব্যাপি অথবা ন্যুনতম অর্ধ দিন ব্যাপি ছোট ছোট দলে এই সফর করবে এবং সংগঠনের দাওয়াতী বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে দাওয়াতী কাজ করবে ও নতুন নতুন শাখা/উপশাখা গঠন করবে।

খ) দাওয়াতী মিছিল
আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার আহ্বান ও খেলাফত কায়েমের দাওয়াত প্রচারের লক্ষ্যে দাওয়াতী মিছিল করবে।

ত্রৈমাসিক কর্মসূচি
প্রতি তিনমাস অন্তর অন্তর তিনদিনের তরবিয়তী সফর করবে।
তরবিয়তী সফর
লক্ষ্য
ক) জনশক্তির আমলী তরবিয়ত ও সুন্নতী জিন্দেগীর অনুশীলন
খ) সাংগঠনিক তরবিয়ত
গ) দাওয়াত সম্প্রসারণ
কর্মসূচি
১) ইজতেমায়ী ও খুসুসী দাওয়াত
২) তরবিয়তী সফরের লক্ষ-উদ্দেশ্যের বয়ান
৩) আলোচনা ও মুযাকারা-
ক) ইসলামের মূল তিন কাজ
খ) দ্বীন বিজয়ের চার স্তর
গ) ইসলামী আন্দোলনের বুনিয়াদ
ঘ) ইসলামী আন্দোলনের কাজ
৪. বিষয় ভিত্তিক আলোচনা
ক) ইসলামী আন্দোলনে রূহানিয়াতের গুরুত্ব
খ) সুন্নতি জিন্দেগী
গ) ইসলামী উম্মাহর বর্তমান হালচিত্র

৫. দাওয়াতী আলোচনা
ক) আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কর্মপদ্ধতি
খ) ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বয়ান

৬) হালক্বায়ে জিকির
৭) নামাযের আমলী মশ্ক
৮) পরিদর্শন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাৎ
৯) নতুন শাখা গঠন ও শাখার কার্যক্রম আলোচনা
১০) হেদায়াতী বয়ান

উপরোল্লেখিত নিয়মিত কার্যক্রম ছাড়াও শাখা উপশাখায় নিয়মিত মাসিক নির্বাহী বৈঠক, দ্বি মাসিক কর্মী, সংগঠক ও নক্বীব বৈঠক পরিচালনা করতে হবে এবং এ সকল বৈঠকে কেবল সংশ্লিষ্ট জনশক্তিবর্গই উপস্থিত থাকবে।

প্রয়োজন স্বাপেক্ষ কর্মসূচি
সংগঠনে জনশক্তির মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। প্রশিক্ষণমূলক নিয়মিত দুটি কর্মসূচি রয়েছে-
ক) তা’লীমী মজলিস
একদিন ব্যাপি নির্বাচিত জনশক্তিদের নিয়ে প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি।
খ) তরবিয়তী মজলিস
দুই বা ততোধিক দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
এছাড়াও জনশক্তির মানোন্নয়নে রয়েছে আরো বহু কর্মসূচি।

সংগঠনের নির্বাচিত বক্তব্যসমূহ

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস তার সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে যে সকল বৈশিষ্ট্য আনয়ন করার চেষ্টা করছে তার মধ্যে অন্যতম হলো, ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সহজ কিছু বক্তব্যের মাধ্যমে সংগঠনের সর্বস্তরে ব্যাপক চর্চা করা। এতে করে এক দিকে যেমন সংগঠনের সকল জনশক্তি বিষয়গুলোকে সহজে উপলব্ধি করতে পারবে অন্য দিকে দাওয়াতী কাজেও সকলে ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে।
বস্তুত এ বক্তব্যগুলোই হলো যুব মজলিসের প্রাণ এবং এগুলোকে কেন্দ্র করেই যুব মজলিসের যাবতীয় কার্যক্রম আবর্তিত। যুব মজলিসের এ জাতীয় বেশ কিছু বক্তব্য রয়েছে। তন্মধ্যে নিম্নোক্ত বক্তব্যগুলো সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

এক. ইসলামের মূল তিন কাজ
আল্লাহ জাল্লা শানুহূর মহান দ্বীন ইসলাম দুনিয়াতে বাস্তবায়নের জন্য নবী আলাইহিমুস্সালামগণ মৌলিকভাবে তিনটি কাজ করেছেন এগুলোকে দ্বীনী কাজের তিনটি স্তর হিসাবেও আখ্যায়িত করা যায়।

১. তা’লীমে দ্বীন
তথা দ্বীনের শিক্ষা ও গঠনমূলক কাজ। তা’লীমে দ্বীনের মধ্যে রয়েছে-
ক) শরীয়তের জাহেরী আহকামের এলেম
খ) তাযকিয়া বা দিলকে পরিশুদ্ধ করার এলেম

২. তাবলীগে দ্বীন তথা দ্বীনের প্রচারমূলক কাজ।

৩. তাগলীবে দ্বীন তথা দ্বীনের বিজয় অর্জনের কাজ।

দুই. দ্বীন বিজয়ের চার স্তর

মানুষের ব্যবহারিক জীবনের চার স্তরে আল্লাহ জাল্লা শানুহূর দ্বীনকে বিজয়ী করতে হয়।
১. ব্যক্তি জীবনে আল্লাহর হুকুমকে প্রাধান্য দেয়ার মাধ্যমে দ্বীন বিজয়ী হওয়ার প্রথম স্তর।
২. সমষ্টিগত ও জামাতবদ্ধ জীবনে আল্লাহর হুকুম পালনের মাধ্যমে দ্বীন বিজয়ী হওয়ার দ্বিতীয় স্তর।
৩. খোদাদ্রোহী বিধি-বিধান ও ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে দ্বীন বিজয়ী হওয়ার তৃতীয় স্তর।
৪. শাসন ব্যবস্থায় আল্লাহর হুকুম তথা খেলাফত কায়েমের মাধ্যমে দ্বীন বিজয়ী হওয়ার চতুর্থ স্তর।

তিন. ইসলামী আন্দোলনের বুনিয়াদ

ইসলামী আন্দোলনের কিছু বুনিয়াদী কাজ রয়েছে। যেগুলো ছাড়া সঠিক ইসলামী আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে না। সেই কাজগুলো হচ্ছে-
১) ঈমান
২) এলেম
৩) আমলে সালেহ
৪) তাক্ওয়া ও তাযকিয়াহ
৫) দাওয়াত ইলাল্লাহ
৬) মজবুত সংঘবদ্ধতা
৭) প্রয়োজনীয় দায়িত্বশীলতার প্রশিক্ষণ

চার. ইসলামী আন্দোলনের কাজ

আল্লাহর দ্বীনের গৌরব রক্ষা ও বিজয়ের লক্ষ্যে ইসলামী শরীয়াহর অনেকগুলো কাজ রয়েছে। সেগুলোই মূলত ইসলামী আন্দোলনের শাশ্বত কর্মসূচি। কাজগুলো নিম্নরূপ-

১) জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ
২) কুফর বিত্ ত্বাগূত তথা কুফরী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা
৩) আমর বিল মা’রূফ ও নাহি আনিল মুনকার তথা ন্যায় কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজে নিষেধ
৪) খুরূজ ‘আলা আইম্মাতিল জাওর তথা জালেম শাসকের বিরুদ্ধে ময়দানে অবতীর্ণ হওয়া
৫) নাসরুল মজলূম তথা মজলূমের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া ও জালেমের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো
৬) ইক্বামাতে দ্বীন তথা জীবনের সর্বস্তরে দ্বীন কায়েম করা
৭) খেলাফত ফিল আরদ তথা জমীনে আল্লাহর খেলাফত কায়েম করা

জনশক্তির স্তর বিণ্যাস

সংগঠনের জনশক্তির স্তর বিণ্যাসের উদ্দেশ্য হলো সুষ্ঠু মানোন্নয়ন। যেমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয় তাদের সুষ্ঠু লেখাপড়ার স্বার্থে। তেমনি সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত জনশক্তিকে সুন্দর পরিকল্পনা ও উত্তম প্রশিক্ষনের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের যোগ্য সৈনিকরূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংগঠনের জনশক্তিকে নিম্নবর্ণিত চার স্তরে বিণ্যাস করা হয়েছে-

১. সদস্য
(খ. প্রাথমিক সদস্য )
সংগঠনের প্রথম স্তর হলো মূলত সদস্য। সদস্যের কিছু মান ও কাজের নির্দেশনা রয়েছে। যারা এর চেয়েও সাধারণ মানের, তাদের প্রাক প্রস্তুতির জন্য প্রথমিক সদস্য হিসেবে তিন মাস ব্যাপী একটি বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।
২. কর্মী
৩. সংগঠক
৪. নকীব
প্রতিটি স্তর থেকে পরবর্তী স্তরে মানোন্নয়নের জন্য কিছু মানদন্ড সাব্যস্ত করা হয়েছে যার ভিত্তিতে জনশক্তির মানোন্নয়ন করা হয়।

জনশক্তির মানোন্নয়ন প্রক্রিয়া
বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের জনশক্তির মানোন্নয়নের জন্য যে সকল মানদন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে তা তিন ক্যাটাগরির। অর্থাৎ মৌলিক তিনটি দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে মানোন্নয়ন করা হয়।

১. সময়কাল
একজন ব্যক্তি সংগঠনের আদর্শ, চিন্তা-চেতনা, দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি-পলিসি বুঝতে হলে একটা লম্বা সময় সংগঠনের সাথে কাজ করতে হবে। সংগঠনের কাজ হলো ব্যক্তিকে ইসলামী আন্দোলনের যোগ্য জনশক্তিরূপে গড়ে তোলা। সুতরাং একজন ব্যক্তি সংগঠনকে কতটুকু বুঝল, আর সংগঠনের শিক্ষাটাইবা কতটুকু অর্জন করতে পারল সেটা প্রমাণিত হতে একটা ন্যুনতম সময়ের প্রয়োজন। তাই মানোন্নয়নের প্রথম মানদ- সাব্যস্ত করা হয়েছে সময়কালকে। সংগঠনের প্রতিটি স্তর থেকে পরবর্তি স্তরে কোন জনশক্তির মানেন্নয়নের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম লক্ষ করা হবে সে কত দিন যাবৎ এই স্তরে কাজ করছে। সকল স্তরের সময়কাল এক সমান না।

২. সক্রীয়তা
মানোন্নয়নের দ্বিতীয় মানদ- হল সক্রীয়তা। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি অনেক দিন ধরে সংগঠন করে এটা যেমন দেখা হবে, এর পাশাপাশি কতটুকু সক্রীয়ভাবে সংগঠন করে সেটাও দেখা হবে। সক্রীয়তা নির্ণয় করার জন্য প্রতিটি স্তরে কিছু কাজ রয়েছে। সেই কাজের মাধ্যমেই সক্রীয়তা প্রমাণিত হবে।

৩. শৃঙ্খলা
শুধু সক্রীয়ভাবে দীর্ঘদিন সংগঠনের কাজ করাই যথেষ্ঠ নয়, সেইসাথে শৃংখলাও মেনে চলতে হবে। সকল কাজে শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করাইতো সংগঠনের মূল কাজ।
উপরোক্ত তিন মৌলদৃষ্টিভঙ্গীর আলোকে প্রতিটি স্তরে মানোন্নয়নের জন্য নিম্নবর্ণিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মানোন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা

সদস্য
সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কর্মপন্থার সাথে সচেতনভাবে একমত পোষনপূর্বক সদস্য ফরম পূরণ করা।

কর্মী

সময়কাল
সদস্য হওয়ার পর থেকে ন্যুনতম ৩ মাস।

সক্রীয়তা
১. নেযামুল আমালের আলোকে নিয়মিত রিপোর্ট রাখা।
২. নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা।
৩. দাওয়াতী কাজ করা।
৪. বাইতুল মালে এয়ানত ব্যক্তিগত মাসিক উপার্জনের শতকরা ১ ভাগ পরিশোধ করতে হবে।
৫. তালীমী মজলিসে শরীক হওয়া(ন্যুনতম ১টি)
৬. সংগঠনের নির্ধারিত বক্তব্য মুখস্ত করা ন্যুনতম ২টি-
ক) ইসলামের মূল তিন কাজ
খ) দ্বীনবিজয়ের চার স্তর

৭. ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের প্রাথমিক জ্ঞান (সিলেবাসের আলোকে) অর্জন করা।

শৃঙ্খলা
শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ে বিশেষ লক্ষ করা হবে।
ক. আনুগত্য, খ. আখলাক

সংগঠক

সময়কাল
কর্মী হওয়ার পর থেকে – ন্যুনতম ১ বছর।

সক্রীয়তা
১. নেযামুল আমালের সন্তোষজনক অনুসরণ (প্রদত্ত নোটের আলোকে)
২. তালীমী মজলিসে শরীক হওয়া (ন্যুনতম ২টি)
৩. তরবিয়তী মজলিসে শরীক হওয়া (ন্যুনতম ১টি)
৪. বাইতুল মালে এয়ানত ব্যক্তিগত মাসিক উপার্জনের শতকরা ৩ ভাগ পরিশোধ করতে হবে।
৩. সংগঠনের নির্ধারিত বক্তব্য মুখস্ত করা। (ন্যুনতম ৩টি)
ক) ইসলামী আন্দোলনের বুনিয়াদ।
খ) ইসলামী আন্দোলনের কাজ।
গ) সুন্নতী জিন্দেগী।
৪. ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন বিষয়ে (সিলেবাস ভিত্তিক) জ্ঞান অর্জন করা।
শৃঙ্খলা
ক. আনুগত্য-
নীতিনির্ধারণী বিষয়সমূহে নিজস্ব চিন্তাধারা পরিত্যাগ ও সংগঠনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার অভ্যাস গড়া।
খ. আখলাক-
ব্যক্তি প্রসিদ্ধির মানসিকতা পরিহার ও ত্যাগ-কুরবানীর মানসিকতা লালন করা।

নকীব

সময়কাল
সংগঠক হওয়ার পর থেকে ন্যুনতম ২বৎসর।
সক্রীয়তা
১. নেযামুল আমালের সন্তোষজনক অনুসরণ (প্রদত্ত নোটের আলোকে)
২. অধ্যায়ন সিলেবাস অনুযায়ী করতে হবে।
৩. সর্বাবস্থায় সংগঠনকে সংহত ও শক্তিশালী করার ফিকির অন্তরে লালন করা।
৪. নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি যে কোনো প্রয়োজনে সাড়াদানে প্রস্তুত থাকতে হবে।
৫. বাইতুল মালে এয়ানত ব্যক্তিগত মাসিক উপার্জনের শতকরা ৩ ভাগ পরিশোধ করতে হবে।
শৃঙ্খলা
১. কেন্দ্রীয় সংগঠনের প্রতি পূর্ণ আস্থা থাকা।
২. আনুগত্য।
৩. ইখলাস।
৪. আখলাক।
৫. লেনদেন (সংগঠনের বাহিরেও)।
৬. প্রাপ্ত দায়িত্বকে ক্ষমতা মনে না করা।
৭. সংগঠনের নীতি আদর্শ ও ইসলামী শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো কার্যকলাপের সাথে সম্পর্ক রাখা যাবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সাংগঠনিক কাঠামো

কেন্দ্রীয় ভাবে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের নিম্নবর্ণিত ফোরাম থাকবে। ফোরামের নাম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, যৌক্তিকতা, গঠন প্রক্রিয়া ও দায় দায়িত্ব নিম্নরূপ :

১. অভিভাবক পরিষদ
পরিচিতি : সংগঠনের সার্বিক নির্দেশনা প্রদান ও তত্বাবধান করবে এই পরিষদ।

যৌক্তিকতা : সংগঠনের অভ্যন্তর থেকে সবসময় কল্যাণ-অকল্যাণের সঠিক পন্থা নির্ধারণ করা যায় না। তা ছাড়া অনেক সময় সংগঠনের নিয়মতান্ত্রিকতার বাইরেও কিছু মানুষের ভূমিকার প্রয়োজন হয়। উপরোক্ত ক্ষেত্র ছাড়াও সংগঠনের আভ্যন্তরীণ অনেক জটিলতা নিরসনসহ নানাবিধ প্রয়োজনে অভিভাবক পরিষদের দরকার।

গঠন প্রক্রিয়া : মজলিসে খাসের প্রস্তাবনায় মজলিসে আমের অনুমোদনে অভিভাবক পরিষদ গঠিত হবে।

দায়িত্ব ও ক্ষমতা : সংগঠনের নীতি-পলিসির বিষয়ে অভিভাবক পরিষদ দিক নির্দেশনা প্রদান করবে।

২. মজলিসে শরয়ী

পরিচিতি : শরিয়া বিষয়ক প্রশ্নের সমাধান দিবে এই মজলিস।

যৌক্তিকতা : সর্বসম্মত বিষয়ে তো সংগঠনকে সর্বসম্মত মতের আলোকে শরিয়া পালন করতে হবে। আর মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে সংগঠন কোন মতের উপর আমল করবে তার নির্দেশনা দিতে মজলিসে শরয়ীর প্রয়োজন।
গঠন প্রক্রিয়া : (সংগঠনের ভিতর ও বাহিরের) শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মজলিসে খাছের প্রস্তাবনায় মজলিসে আমের অনুমোদনে গঠিত হবে মজলিসে শরয়ী।

দায়িত্ব ও ক্ষমতা : সংগঠনের যে কোনো পদক্ষেপকে শরিয়তের আলোকে বিচার-বিশ্লেষণ করবে এবং ব্যত্যয় দেখলে সংগঠনের পর্যায়ক্রমে সর্বোচ্চ ফোরামে উত্থাপনের উদ্যোগ নিতে পারবে।

৩. নক্বীব মজলিস

পরিচিতি : সংগঠনের সর্বোচ্চ ফোরাম এটি।

যৌক্তিকতা : সংগঠনের মানোন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ মানে উন্নীত জনশক্তি সংগঠনের সর্বাধিক কল্যাণকামী ও সংগঠনকে সব চেয়ে ভালো উপলব্ধিকারী হবে, এটাই স্বাভাবিক।

গঠন প্রক্রিয়া : সংগঠনের নক্বীব মানে উন্নীত সকল জনশক্তি নক্বীব মজলিসের সদস্য হবে।

দায়িত্ব ও ক্ষমতা : সংগঠনের যাবতীয় নীতি-পলিসি ও সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অনুমোদন দানকারী ফোরাম এই নক্বীব মজলিস।

৪. মজলিসে শূরা আম
পরিচিতি : নক্বীব মজলিসের প্রতিনিধত্বশীল ফোরাম এটি। সংক্ষেপে মজলিসে আম নামে অভিহিত হবে।
যৌক্তিকতা : নক্বীব মজলিস সংগঠনের সর্বোচ্চ ফোরাম। কিন্তু তার পরিধি অনেক বড় হওয়ার সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে শূরায়ী নেযামকে সক্রিয় ও কার্যকর করতে এই প্রতিনিধিত্বশীল ফোরামের প্রয়োজন।
গঠন প্রক্রিয়া : তিন ক্যাটাগরির সদস্য নিয়ে গঠিত হবে মজলিসে শূরা আম (মজলিসে আম)-
১. নক্বীবদের আনুপাতিক হারে নির্বাচিত নক্বীব। (অনুপাত নির্ধারণ করবে নক্বীব মজলিস)
২. বিগত মজলিসে খাছের সকল সদস্য।
৩. উপরোক্ত দুই প্রকার সদস্যের আনুপাতিক হারে তাদের অধিকাংশের মতে মনোনীত সদস্য। (অনুপাত নির্ধারণ করবে উক্ত দুই প্রকারের সদস্যবৃন্দ)

দয়িত্ব ও ক্ষমতা : সর্বোচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন নক্বীব মজলিসের প্রতিনিধি হিসাবে সংগঠনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা ও নক্বীব মজলিসের নিকট জবাবদিহিতা করা।

৫. মজলিসে শূরা খাছ

পরিচিতি : মজলিসে শূরার নিয়মিত ও নৈমিত্তিক দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে মজলিসে শূরা আমের সংক্ষেপিত ফোরাম এটি। সংক্ষেপে মজলিসে খাছ নামে অভিহিত হবে।

যৌক্তিকতা : নিয়মিত পরামর্শ ও বিভাগীয় কাজ আঞ্জাম দেয়ার জন্য ছোট ফোরামের প্রয়োজন।

গঠন প্রক্রিয়া : সভাপতি পরিষদ ও সভাপতি পরিষদের প্রস্তাবনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সম্পাদক ও সহকারীর সমন্বয়ে মজলিসে আমের অনুমোদনে গঠিত হবে মজলিসে শূরা খাছ।

দায়িত্ব ও ক্ষমতা : সংগঠনের নিয়মিত কাজ আঞ্জাম দেয়া ও মজলিসে আমের প্রতিনিধিত্ব করা।

৬. শূরায়ী কমিটি

পরিচিতি : মজলিসে আমের সদস্যদের নিয়ে সাংগঠনিক সকল বিভাগের জন্য বিভাগীয় কমিটি।

যৌক্তিকতা : সংগঠনের প্রতিটি বিভাগে শূরায়ী নেযাম কার্যকর হবে।

গঠন প্রক্রিয়া : মজলিসে আমের সদস্যগণকে ছোট ছোট দলে ভাগ করে বিভাগীয় কমিটির প্রস্তাবনা তৈরি করবে মজলিসে খাছ। আর অনুমোদন দিবে মজলিসে আম।

দায়িত্ব ও ক্ষমতা : প্রতিটি শুরায়ী কমিটি স্ব স্ব বিভাগের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে। বিভাগের সম্পাদক শুরায়ী কমিটিকে আস্থায় নিয়ে কাজ করতে বাধ্য থাকবে।

৭. সভাপতি পরিষদ

পরিচিতি : সভাপতির দায়িত্ব পালনে সার্বক্ষণিক সহযোগী ফোরাম এটি। সভাপতি ও দুইজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে সভাপতি পরিষদ।

যৌক্তিকতা : সংগঠনের অতীব গোপনীয় বিষয়সমূহের সমাধানে ছোট্ট ফোরামের প্রয়োজন।

গঠন প্রক্রিয়া : বিগত মজলিসে খাছের সদস্যদের মধ্য থেকে মজলিসে আমের প্রত্যক্ষ ভোটে দুইজন সভাপতি পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হবে। সভাপতি ও উক্ত দুই সদস্যের সমন্বয়ে সভাপতি পরিষদ গঠিত হবে।

দায়িত্ব ও ক্ষমতা : সংগঠনের সব চেয়ে সিনিয়র দায়িত্বশীল হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে।

শাখা গঠন প্রক্রিয়া

১. কেন্দ্রের সরাসরি তত্বাবধানে পরিচালিত সংগঠনের শাখাসমূহ শাখা নামে পরিচিত হবে। আর শাখার তত্বাবধানে পরিচালিত অধঃস্তন শাখাসমূহ উপশাখা নামে পরিচিত হবে।

২. কেন্দ্র সাধারণভাবে জেলা পর্যায়ে শাখা পরিচালনা করবে।

৩. সংগঠনের নক্বীব পর্যায়ের ন্যুনতম তিনজন দায়িত্বশীল থাকলে শাখা গঠন করা যাবে।

৪. একজন নক্বীব থাকলে উ শাখা গঠন করা যাবে।

কারণ, নক্বীব পর্যায়ের জনশক্তিই সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। আর একটি শাখা বা উপশাখা স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের দায়িত্ব বহন করে। সুতরাং সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করতে পারার মতো দায়িত্বশীল না থাকলে শাখা বা উপশাখা প্রকৃত অর্থে সেই দায়িত্ব বহন করতে পারবে না।

৫. উপশাখা পর্যায়ে একজন নক্বীব এবং শাখা পর্যায়ে তিনজন নক্বীব না হওয়া পর্যন্ত ‘প্রাথমিক উপশাখা’ এবং ‘প্রাথমিক শাখা’ রূপে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

দায়িত্বশীল নির্বাচন প্রক্রিয়া

১. কেন্দ্র থেকে অধঃস্তন স্তর পর্যন্ত দায়িত্বশীল নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংগঠনের নক্বীবরাই সাধারণত ভোটার হতে পারবে।

২. কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের জন্য সভাপতি পরিষদ প্যানেলরূপে গণ্য হবে। বিগত সভাপতি পরিষদের তিন সদস্যের মধ্য থেকে নক্বীবদের প্রত্যক্ষ ভোটে একজন সভাপতি নির্বাচিত হবে।

৩. কোনো শাখা বা উপশাখায় ন্যুনতম তিনজন নক্বীব থাকলে তার সভাপতি নক্বীবদের মধ্য থেকে একজন তাদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবে। অন্যথায় উর্ধতন পক্ষ থেকে সভাপতি মনোনয়ন দেয়া হবে।

৪. শাখা ও উপশাখার একজন সহসভাপতি ও অন্যান্য দায়িত্বশীলগণ উর্ধতন পক্ষের অনুমোদনে নির্বাচিত হবে।

সংগঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া

কেন্দ্র থেকে উপশাখা সংগঠনের সব ধরনের ফোরামে শূরায়ী নেযামের আলোকে সিদ্ধান্ত গৃহিত হবে। ফোরামের সদস্যগণ মশওয়ারা ব্যক্ত করার পর ‘আমীরে ফায়সাল’ তথা সভাপতি সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে স্বাধীন থাকবেন। সংখাগরিষ্ঠের মত, সংখালঘিষ্ঠের মত কিংবা এর বাইরে সভাপতি তার নিজস্ব মতের আলোকে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ঘোষনা করতে পারবেন। যদি ফোরাম তা মেনে নেয় তাহলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। আর যদি কেউ আপত্তি জানায়, তবে সংখাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে ফায়সালা দিতে সভাপতি বাধ্য থাকবেন।

যুব মজলিসের শ্লোগান

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস তার চিন্তা, দর্শন ও কর্মসূচির সাথে সমন্বয় করে আহ্বানী কিছু শ্লোগানও প্রচার করে থাকে। যার অন্যতম কয়েকটি নিম্নরূপ-

এই সমাজ ভাঙতে হবে-দ্বীনের বিজয় আনতে হবে
খোদার আকাশ খোদার জমীন-করব কায়েম খোদার দ্বীন
দ্বীনবিজয়ের সংগ্রাম-চলছে চলবে
তন্ত্র-মন্ত্রের দিন শেষ-খেলাফতের বাংলাদেশ
মুক্তির রাজপথ-ইসলামী খেলাফত
দ্বীনবিজয়ের সংগঠন-যুব মজলিস জিন্দাবাদ
যুব মজলিস দিচ্ছে ডাক
যুব সমাজ জাগরে জাগ!
আয়রে যুবক আয় নবীন
করতে কায়েম খোদার দ্বীন!

শেয়ার করুন
Scroll to Top