৪৫
কুমিল্লার মিয়ামি হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমদের ছোট বোন, ভগ্নিপতি মাওলানা আব্দুল মোমিন এবং তাঁদের দুই সন্তানসহ একই পরিবারের ৪ জন সদস্যের করুণ মৃত্যুতে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে। আজ এক যৌথ শোকবার্তায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ জাহিদুজ্জামান, সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফ ও মাওলানা জাকির হোসাইন এই শোক ও প্রতিবাদ জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মাওলানা ফয়সাল আহমদের পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি কেবল একটি শোকের ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের সড়ক অব্যবস্থাপনার এক চরম কলঙ্কজনক অধ্যায়। এক মুহূর্তে একটি পরিবারের ৪টি প্রাণ এভাবে নিভে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই শোক শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং এটি গোটা জাতির। নেতৃবৃন্দ কঠোর ভাষায় বলেন, সড়কে প্রতিনিয়ত এমন মৃত্যুর মিছিল চললেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা বর্তমান প্রশাসনের চরম শাসনতান্ত্রিক ব্যর্থতা ও চরম দায়িত্বহীনতারই বহিঃপ্রকাশ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ঈদ পরবর্তী সময়ে সড়কের বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটছে। প্রশাসন জননিরাপত্তার চেয়ে নিজেদের স্বার্থরক্ষায় মগ্ন থাকায় সড়কগুলো আজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে নিরাপদ করতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করে মন্ত্রীদের কেবল বাগাড়ম্বর করা বন্ধ করতে হবে। আমরা অবিলম্বে এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি প্রদান করছি। অন্যথায় জনরোষের দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।
পরিশেষে নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহ তা‘আলার দরবারে বিনীত প্রার্থনা করেন—তিনি যেন নিহতদের শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন এবং তাঁদের সকল গুনাহ মাফ করে জান্নাতুল ফিরদাউসে উচ্চ মাকাম দান করেন। আল্লাহ তা‘আলা যেন শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করেন এবং দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন। আমীন।