প্রিয় দেশবাসী !
দায়িত্ববোধ প্রত্যেক সুনাগরিকের বৈশিষ্ট্য। ইসলামও এই বিষয়ে অনেক গুরুত্বারোপ করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। (সহীহ বুখারী) প্রচলিত ব্যবস্থায় জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দেশ-জাতি ও ধর্মের কল্যাণকামী দল ও ব্যক্তিকে নির্বাচন করা প্রত্যেক ভোটারের দায়িত্ব। প্রচলিত শ্লোগান ‘আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশি তাকে দিব’ দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। এ কথা বলে, কোন দুর্নীতিবাজ, জাতীয় গাদ্দার ও ধর্মদ্রোহী দল বা ব্যক্তিকে ভোট দিলে দায়িত্বের প্রতি চরম অবহেলা করা হবে। এর কুফল আমি সহ পুরো জাতিকে ভোগ করতে হবে। আর আখেরাতেও রয়েছে কঠিন শাস্তি। কারণ, ইসলামী শরীয়ার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি ভোটে তিনটি বিষয় থাকে-
এক. সাক্ষ্য
কোন প্রার্থী বা দলের পক্ষে ভোট দিলে, তারা উক্ত পদে যোগ্য; এ কথার সাক্ষ্য দেয়া হয়। তাই যাবতীয় সঙ্কীর্ণতা, স্বজনপ্রীতি ও বৈষয়িক ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে উঠে ভালো দলের সৎ ও যোগ্য লোককে ভোট দিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাক্ষ্যদানকারী হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অবিচল থাকবে।’ ( সূরা-মায়েদা, ৮)
দুই. সুপারিশ
জনপ্রতিনিধিত্বের দায়িত্বের জন্য কোন প্রার্থীকে ভোট দেয়ার অর্থ হলো, ভোটার এ মর্মে সুপারিশ করছেন যে, তাকে এবং তার দলকে এই দায়িত্ব দেয়া হোক। সুতরাং অসৎ লোককে ভোট দেয়ার অর্থ হলো, তাকে দায়িত্ব দেয়ার জন্য আপনি সুপারিশ করছেন। সে তার অপকর্মগুলোর আপনিও ভাগীদার হবেন। ভালোর ক্ষেত্রেও একই কথা। তার ভালো কাজগুলোর বদলা আপনি পাবেন। আল কুরআনে বলা হয়েছে ‘কেউ ভালো কাজের সুপারিশ করলে, তাতে তার অংশ থাকবে এবং কেউ কোনো মন্দ কাজের সুপারিশ করলে, তাতে তার অংশ থাকবে।’ ( সূরা নিসা-৮৫ )
তিন. ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত
ভোটারের কাছে ভোট একটি গচ্ছিত আমানত। দেশ-জাতি ও ধর্মের কল্যাণকামী দলের সৎ, খোদাভীরু ও দেশপ্রেমিককে ভোট দিলে, এই আমানতের সদ্ব্যবহার করা হয়। আল কুরআনে এই নির্দেশই দেয়া হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও।’ ( সূরা নিসা-৫৮ ) আর অসৎ ব্যক্তিকে ভোট দিলে আমানতের খেয়ানত করা হয়। অধিকন্তু এ আমানতের খেয়ানত ব্যক্তিগত খেয়ানতের চেয়ে গুরুতর, কেননা এর ফলে অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই আসুন! যোগ্য, সৎ ও খোদাভীরু ব্যক্তিকে ভোট দেই। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও ধর্মদ্রোহীকে না বলি। ন্যায় ও সাম্যের ভিত্তিতে দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখি!!!




মাওলানা মামুনুল হক বলেন, তাওহিদ ও একত্ববাদে বিশ্বাসী কোনো মানুষ হিন্দু দেবতার আর্শিবাদ বিশ্বাস করতে পারে না। যদি বিশ্বাস করে তার ঈমানও থাকতে পারে না। ইসকনের এসব কর্মকাণ্ড সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছাড়া আর কিছু নয়। যদি এসবের ফলে কিছু মুসলিম উচ্ছৃঙ্খল যুবকরাও হিন্দুদের ঘরে ঘরে গিয়ে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে কুরবানির গোশত খেতে বাধ্য করে এর জন্য আমি ইসকনকেই দায়ী করবো।
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আজ আমরা প্রচণ্ড ক্ষোভ নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছি। সরকারের দায়িত্ব জনগণের কল্যাণে ভূমিকা রাখা। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অথচ সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষা না করে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী। ফলে সরকারের বাজেট টানতে টানতেই জনগণের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
এসময় দলটির শত শত নেতাকর্মী মিছিলে অংশ নেন। এসময় ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ড. মুহাম্মদ মুরসি ছিলেন মিশরের ইতিহাসে একমাত্র নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি ছিলেন বিশ^ব্যাপী ইসলামি আন্দোলনের মূর্তপ্রতীক। তিনি জালিমের কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দি ছিলেন। স্বৈরশাসক সিসি সরককারের জুলুম ও নির্যাতনে তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, শুধু মিশর নয়, গোটা বিশ্বজুড়েই সম্রাজ্যবাদীদের কালো হাত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এদের লক্ষ ইসলামি শক্তিকে ধূলিস্যাত করে দেওয়া। আমরা তরুণরা সচেতন না হলে এ অপশক্তির কালো হাত একদিন এ দেশের মাটিতেও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, যুব মজলিসের সহকারী বাইতুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, কেন্ত্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ হুসাইন। ঢাকা মহানগরীর সহ সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামানের পরিচালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর নির্বাহী সদস্য মাওলানা মুর্শিদুল ইসলাম, মাওলানা আবুল হুসাইন, মাওলানা রুহুল আমীন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন প্রমুখ।